বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হচ্ছে। তবে এ উত্তরণ আরো কঠিন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এতে দরকার হবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার আরো বেশি সক্ষমতা। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের (আইসিসিবি) ত্রৈমাসিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বলা হয়, জাতিসংঘের নির্ধারিত তিনটি সূচক জনপ্রতি ব্যক্তির আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচকগুলোতেই সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উঠতে যাচ্ছে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এখনকার শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় রফতানি গন্তব্য হারাবে। তৈরি পোশাক খাতে ১০-১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অনেকটা কমে যেতে পারে। যদি উৎপাদনশীলতা না বাড়ে ও নতুন বাজার বা উচ্চমূল্যের পোশাক পণ্যে বৈচিত্র্য আনা না যায়, তবে এ খাতের বর্তমান সুবিধাজনক অবস্থান হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, বৈশ্বিক বাণিজ্যের বর্তমান প্রবণতা এ চ্যালেঞ্জকে আরো জটিল করে তুলছে। বিশ্বজুড়ে বাড়ছে সুরক্ষাবাদ, কঠিন সরবরাহ শৃঙ্খল মানদণ্ড এবং অশুল্ক বাধা যেমন কার্বন ট্যাক্স ও শ্রম-পর্যবেক্ষণ আইন। এসব কারণে প্রচলিত রফতানি পদ্ধতি এখন ঝুঁকির মুখে।
সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ আর কম সুদে ঋণ বা অনুদান পাবে না। ফলে দেশকে ব্যয়বহুল বাণিজ্যিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, আর বৈশ্বিক সুদের হার বাড়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করাও আরো কঠিন হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে দরকার হবে শক্তিশালী ঋণ ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ও রফতানিতে বৈচিত্র্য আনা।
এলডিসি থেকে উত্তরণে করণীয় তুলে ধরে সম্পাদকীয়তে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ধরে রাখতে সাহসী কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দরকার। কর ও শুল্ক প্রক্রিয়া সহজ করা, চুক্তি বাস্তবায়নের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল প্রশাসন সম্প্রসারণ করা হবে মানসম্মত বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিয়ম-নীতির স্বচ্ছতা ও দ্রুত সেবাদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দেশে ব্যবসা পরিচালনা আরো সহজ ও কার্যকর হয়।